ব্যাখ্যা দিতে হবে ওসি আবুল খায়েরকে

images.jpeg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারে মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় তার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথের বিরুদ্ধে রামু থানায় মামলা করে পুলিশ। সিনহা হত্যা মামলার সঙ্গে ওই মামলাটিরও তদন্তভার র‌্যাবের কাছে ন্যস্ত করেন আদালত। তবে মামলার পাঁচ দিন পর আলালতে জব্দ তালিকা পাঠায় পুলিশ। আলামত পাঠাতে কালক্ষেপণ করায় আদালত রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কারণ দর্শানোর আদেশ দিয়েছেন। সাত দিনের মধ্যে ওসিকে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

গত ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় টেকনাফ ও রামু থানায় পৃথক মামলা করে পুলিশ। একই সঙ্গে সাবেক ওসি প্রদীপ ও পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ জনকে আসামি করে সিনহার বোন কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় ওসি প্রদীপসহ অন্য আসামিরা বর্তমানে র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা নিহত হওয়ার পর রামু থানার নীলিমা রিসোর্টে অভিযান চালায় পুলিশ। ওই রিসোর্টে অপর তিন সহকর্মীকে নিয়ে থাকতেন অবসরপ্রাপ্ত সিনহা মো. রাশেদ খান। এ সময় সেখান থেকে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় রামু থানায় দায়ের করা।

মামলার জব্দ তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। নীলিমা রিসোর্টে অভিযানের সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সেখান থেকে গুলি, কম্পিউটার, হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ জব্দ করছে। তবে শুরুতে পুলিশ রিসোর্ট থেকে শুধু গাঁজা ও মদ উদ্ধারের দাবি করলেও পরে জব্দ তালিকায় ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ ২৯টি আলামত দেখায়।

গত ১৭ আগস্ট রামু থানার হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. শফিকুল ইসলাম এবং ১৮ আগস্ট র‌্যাব-১৫ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকারের পৃথক দুটি আবেদনের শুনানি করেন কক্সবাজার আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। আদালত শুনানি শেষে বলেন, ‘প্রস্তুতকৃত জব্দ তালিকাটি বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের ক্ষেত্রে পাঁচ দিন বিলম্ব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৫১, ১০৩, ৫২৩ ধারার এবং পিআরবি-এর ৩৭৯ বিধির বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে বলে আদালতের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।’ কেন এ বিলম্ব হলো তা আদালতে হাজির হয়ে রামু থানার ওসিকে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেন আদালত।

Share this post

scroll to top