রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্থানীয়সহ নিহত ৪

IMG_20201007_122727.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দুই গ্রুপের গোলাগুলি ও সংঘর্ষে স্থানীয়সহ ৪ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হচ্ছেন টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী গ্রামের দিলদার আহম্মদের ছেলে নুরুল বশর (৩০) একই ইউনিয়নের পশিম সিকদার পাড়া গ্রামের নুর হোসনের ছেলে নোহা চালক নুরুল হুদা (৩২), নিহত রোহিঙ্গারা হলেন, ক্যাম্পের শীর্ষ সন্ত্রাসী মুন্না গ্রুপের মুন্নার ভাই গিয়াস (৩৫)ও মারুফ (৩০)। আধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’টি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষের জের ধরে প্রতিনিয়ত এ হত্যাকান্ডেরমত জঘণ্য ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বুধবার সকাল ৬ টার দিকে উখিয়া থানা পুলিশ লম্বাশিয়া ক্যাম্প এলাকা থেকে নিহত লাশ গুলো উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার মর্গে প্রেরণ করেছে।
স্থানীয় নিহতদের স্বজন আলমগীর ও আবু ছিদ্দিক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ক্যাম্পে মুন্না গ্রুপ ও আলেকিন নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে ক্যাম্পে গণহারে চাঁদাবাজি করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। চাঁদা না দিলে তারা অপহরণ পূর্বক মারধর করে টাকা আদায় করে থাকে। এ নিয়ে দু’গ্রুপের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা বিরাজ করে আসছিল। এনিয়ে গত শুক্রবার রাতভর দফায় দফায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ১০ জন ঘটনাস্থলে আহত হয়। এঘটনার জের ধরে শনিবার দিবাগত রাতে ফের ঘটনার সূত্রপাত হয়। এসময় রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে বেশ কিছু বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট পাটকেল নিক্ষেপ ও গোলাগুলির ঘটনায় কমপক্ষে ১৬ জন রোহিঙ্গা আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয় এমএসএফ ও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এব্যাপারে রেজিষ্ট্রার্ড ক্যাম্পের চেয়ারম্যান হাফেজ জালাল আহমদ জানান, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে। তাদের মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে নিয়মিত কথা কাটাকাটি, হাতাহাতি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। প্রশাসন কোন ভাবেই তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। তিনি বলেন, এভাবে চলতে থাকলে এখানে লাশের সারি আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। ক্যাম্প ইনচার্জ খলিলুর রহমান জানান, ইয়াবা পাচার ও আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকান্ড ঘটতে পারে। তবে কি জন্য দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে তার সঠিক তথ্য জানা নেই। উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সঞ্জুর মোরশেদ জানান, এ ব্যাপারে দুটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ভিতরে ও আশে পাশে বসবাসরত জাফর আলম, মোঃ শফি, রিয়াজুল হক, সিরাজুল হক সহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানান, রোহিঙ্গারা কথায় কথায় দা, কিরিচ, বন্দুক নিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। গত রাতে গোলগুলির আওয়াজে তারা ঘুমাতে পারেনি। আতংকে রাতযাপন করতে হচ্ছে। যা স্থানীয়দের জন্য আতংকের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে।

Share this post

scroll to top