সংবাদ শিরোনাম

উখিয়ার থাইংখালীতে বন বিভাগের সহযোগিতায় বালি উত্তোলন অব্যাহত

pic-ukhiya-11-10-2020.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বনবিটের আওতাধীন তেলখোলা ও মোছারখোলা এলাকায় বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সহযোগিতায় স্থানীয় বালি সিন্ডিকেটের গডফাদাররা সরকারি বনভুমির বিশাল বিশাল পাহাড়ের সাথে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দিনরাত বালি উত্তোলন করলেও দেখার কেউ নেই। তারা গাড়ী প্রতি ৪শ টাকার বালি ৪ হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হওয়ার সুবাদে বালি লুটপাটের মহোৎসব চালাছে। এক শ্রেনীর পেশাদার বালি উত্তোলনকারী সিন্ডিকেট প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে উখিয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক স্পট থেকে নির্বিচারে অবৈধ উপায়ে বালি উত্তোলনের ফলে পালংখালী ইউনিয়নের তেলখোলায় বসবাসরত উপজাতি জনগোষ্টির বাড়ীঘর যে কোন সময়ে ধ্বসে পড়তে পারে বলে দাবী করছেন ভুক্তভোগীরা।
সরজমিন থাইংখালীর তেলখোলা, মোছারখোলা, বালুখালী, হরিণমারা, বাগানের পাহাড়, আমিন পাড়া, মনখালীর চিকুনছুরি খাল, ছোটখাল, বড়খাল, রেজুর মোহনা, মরিচ্যা খাল, তুতুরবিল, রাজাপালং, হিজোলীয়া, গয়ালমারা দোছরী খালের ১৫টি স্পটসহ ৫০টিরও অধিক স্থান থেকে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করে হাতিয়ে নিচ্ছে সরকারি লাখ লাখ টাকার রাজস্ব। তেলখোলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্থ কিয়ামং চাকমা (৪৫) এর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা যায়, বাড়ী সংলগ্ন পাহাড়ের নিচে গর্ত করে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে পানি উত্তোলনপূর্বক গর্ত পরিপূর্ণ করা হয়েছে। ফলে বালির পাহাড় ক্রমশক ভেঙ্গে পড়ছে।
অপর দিকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করে পাচার করা হচ্ছে। অব্যাহত ভাঙ্গন ও বালি উত্তোলনের ফলে উপজাতিদের প্রায় ৪/৫টি বসতবাড়ি এখন ঝুঁকির মূখে রয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলো অভিযোগ করে জানিয়েছেন। উক্ত বালি সিন্ডিকেটের অন্যতম গডফাদার ও প্রশাসন ম্যানেজকারী নামে পরিচিত রশিদ প্রকাশ বালি রশিদ,তেলখোলা এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মানিক চাকমা, হেডম্যান বাউনু চাকমা,তেলাখোলা গ্রামের মৃত সোলতান আহম্মদের ছেলে ফরিদ আলম, থাইংখালী এলাকার মৃত ছৈয়দুর রহমানের ছেলে মমতাজ মিয়া,থাইংখালীর সরওয়ার কামাল,থাইংখালী ঘোনার পাড়া গ্রামের ছব্বির আহম্মদের ছেলে খাইরুল বশর,  জুয়েল,অবসর প্রাপ্ত বিজিবি সদস্য আব্দুল করিম, এজাহার মিয়া, সিকান্দর, তোফাইল, জুনু, লালু, বালুখালী পানবাজার এলাকার বালু ভট্রো, আরো অনেকেই। ভারী যানবাহন দিয়ে বালি পাচারের ফলে গ্রামীন সড়ক ভেংঙ্গে ক্ষত বিক্ষত হয়ে চলাচলের অনুপযোগি হওয়ার কারনে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
সহকারী কমিশনার ভুমি মোঃ আমিমুল এহসান খান জানান, তিনি এ পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্থানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে যা দেখেছেন তাতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লাখ লাখ টাকার বালি লুটপাটের সত্যতা পেয়েছেন। এবং প্রায় অর্ধশতাধিক লোকজনকে অবৈধ বালি উত্তোলনের দায়ে জরিমানা করেছেন। উদ্ধার করেছেন বালি উত্তোলনের সরঞ্জমাদি। বন বিভাগের পাহাড় কেটে বালি উত্তোলন পূর্বক পাচারের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা তারিকুর রহমান জানান, লোকবল সংকটের কারনে তারা ইচ্ছা থাকা সত্বেও অবৈধ বালি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তবে প্রত্যক্ষদর্শী বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ জানিয়েছেন, বন ভুমির পাহাড় কেটে বালি ও মাটি পাচারের ক্ষেত্রে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছে। অভিযুক্ত থাইংখালী বনবিট কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম পাহাড়ে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের কথা স্বীকার করলেও টাকা নেওয়ার বিষয়টি রহস্যজনক ভাবে এড়িয়ে যান তিনি। স্থানীয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছিক এক ব্যাক্তি বলেন, বালি সিন্ডিকেট থেকে রেঞ্জ অফিস ম্যানেজ বাবদ প্রতি মাসে ১৫ হাজার ও থাইংখালী বনবিট অফিস বাবদ ১০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে থাকেন খোদ বিট কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

Share this post

scroll to top