সংবাদ শিরোনাম
উখিয়ার ক্যাম্প থেকে ভাসানচরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে রোহিঙ্গাদের বিশাল বহররামু সেনানিবাসে ৪ ইউনিটের পতাকা উত্তোলন করলেন সেনা প্রধানউখিয়ায় একাধিক মামলার আসামি রফিকুল হুদা আটক২ লাখ ৮০ হাজার ইয়াবাসহ মিয়ানমারের ৭ নাগরিক আটককক্সবাজার সড়কে বাস ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬নাইজেরিয়ায় ১১০ কৃষকের গলা কেটে বর্বর হত্যাকাণ্ডউখিয়া প্রেসক্লাব নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে অজগর সাপ উদ্ধারউখিয়ায় বন বিভাগের অভিযানে ৪টি অবৈধ ড্রেজার মেশিন ও ১৪টি…রোহিঙ্গা সুরক্ষায় নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতে মিয়ানমারের দ্বিতীয় প্রতিবেদন

নোবেল করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা

download.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

সারাবিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি এমন কোন দেশ নেই। জনসংখ্যা অনুপাতে বাংলাদেশে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়লেও সরকারের শুভবুদ্ধির কারণে তা ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারেনি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বিশ্বের অন্যান্য দেশে মৃত্যুহার লক্ষাধিক ছড়িয়ে গেলেও বাংলাদেশে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার। তথাপিও করোনার ভয়ে শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে যাবতীয় উন্নয়ন তৎপরতা থমকে যাওয়ার কারণে দেশ যখন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয় ঠিক তখনই সরকার লকডাউন তুলে নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনে। তবে শিক্ষাঙ্গন বন্ধ থাকলেও তেমন কোন ক্ষতির আশংকা মনে করছে না শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কোমলমতি শিশুরা স্কুল বন্ধ পেয়ে বিভিন্ন শিশু শ্রমের দিকে ধাবিত হওয়ায় এসব শিশুদের পুনরায় শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিত।
অভিভাবকদের অভিমত যেহেতু শিশু শিক্ষার্থীরা এমনিতে স্বাভাবিক অবস্থায় স্কুলে যেতে চায় না। সেখানে মাসের পর মাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ পেয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা যেন লম্বা ছুটি পেয়েছে বলে এমনটি মনে করে এমন শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পেশার দিকে ধাবিত হতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি কোর্টবাজার ষ্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহন গ্যারেজে কোমলমতি শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। এমন একজন শিশু ফোরকান। যার বয়স ৯/১০ বছর। পরনে হাফ প্যান্ট, গায়ে গেঞ্জি। জানতে চাওয়া হলে স্কুল বন্ধ তাই গ্যারেজের কাজ করছি। এখানে দৈনিক ৫০ টাকা বেতন দেয়। তা দিয়ে বাড়ি খরচ না চললেও বাবা-মায়ের অনেক কাজে আসছে বলে ওই শিশু দাবী করছেন। স্কুল খুললে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিশু বললেন, এখানে বেতন বাড়িয়ে দিলে আর স্কুলে যাব না।
উখিয়া সদর, কুতুপালং, বালুখালী, পালংখালী, থাইংখালী, মরিচ্যা, সোনারপাড়া ও কোর্টবাজার ঘুরে দেখা যায়, হোটেল রেষ্টুরেন্টে অসংখ্য শিশু শ্রমিক কাজ করছে। তাদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানতে চাওয়া হলে বলেন, তারা ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। স্কুল বন্ধ থাকায় হোটেল রেস্টুরেন্টে কাজ করে টাকা আয়ের জন্য মা-বাবার অনুমতি রয়েছে। স্কুল খুললে আবার ফিরে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিশুরা বললেন, স্কুল খুললে চলে যাব। এভাবে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান ঘুরে চেনা জানা স্থান পরিদর্শন পূর্বক বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকদের সাথে আলাপ করা হয়। তবে বেশি সংখ্যক অভিভাবক জানালেন, ছেলে বেকার থাকলে খারাপ হয়ে যাবে। তাই কাজে লাগিয়ে দিয়েছি। সকালে যায়, বিকেলে ফিরে আসে বাড়ীতে। অবস্থা স্বাভাবিক হলে এসব শিশুদের স্কুলে পাঠানো হবে কিনা জানতে চাইলে ছাত্র- অভিভাবক ইসলাম মিয়া জানান, অবশ্যই স্কুল খুললে তার ছেলেকে শিক্ষাঙ্গনে পাঠানো হবে।
এ প্রসঙ্গে উখিয়া ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক তৌহিদুল আলম তহিদের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তারা কোন ভাবে ম্যানেজ করে নিতে পারবে। তবে শিশু শিক্ষার্থীদের বেলায় মারাত্মক হয়রানির শিকার হতে হবে অভিভাবক তথা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। কেননা যেসব শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন স্কুলে অনুপস্থিত তাদেরকে শিক্ষাঙ্গনে ফিরানো কষ্টকর হবে। উখিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, তার স্কুলে যেসব শিক্ষার্থী রয়েছে তারা স্কুল খোলা মাত্রই চলে আসবে। তবে কিছু কিছু গরিব শিক্ষার্থী কয়েকদিন অনুপস্থিত থাকতে পারে। তা নিয়ে শিক্ষার কোন অসুবিধা হবে না।

Share this post

scroll to top