দুর্ভোগ শেষ হবে কবে

Ukhiya-Pic-16.11.2020.jpg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

দেশের সর্বদক্ষিণে বিদ্যমান যাত্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ কক্সবাজার টেকনাফ মহাসড়কটির উন্নয়ন কাজ প্রায় দুই বছরও শেষ হচ্ছে না। উন্নয়নের নামে সড়কের জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে খুড়াখুড়ি করে ফেলে রাখা সড়ক যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইতিমধ্যে লিংকরোড থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দুইটি প্যাকেজ অতিক্রম করতে গিয়ে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক পথ ও যাত্রী। তবুও সড়ক নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদার ও সংশ্লিস্ট সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীদের টনক নড়েনি। যানবাহন শ্রমিকরা বলছেন, আগে অনেক ভাল ছিল, সড়কটির বিভিন্ন স্টেশনে চার লেনে উন্নীত করতে গিয়ে যন্ত্রদানবের আতংকে বিশেষ করে বয়োবৃদ্ধ ও শিশুরা রাস্তায় উঠতে পারছে না। অনেকেই দুঃখ করে বলছেন, সড়কের দূর্ভোগ আর কতদুর?
সরেজমিন নির্মানাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় নাজুক অবস্থা। সিএনজি মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি মোক্তার চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আমিন শাকিল যুক্ত বিবৃতিতে দুটি প্যাকেজে সড়ক উন্নয়ন কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট সড়ক জনপদ বিভাগ কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দিয়েছে। তারা বলেছে, বিগত চার মাস লকডাউন চলাকালীন সময়ে কাজ করলে সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে যেত। তা না করে জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে একদিকে যানবাহন চলাচল অন্যদিকে মানব চলাচলের দৃশ্য যেন এক করুণ অবস্থা। এ অবস্থা শেষ কবে হবে তা অবিলম্বে জানাতে বলা হয়েছে।
বিশেষ করে সড়কের কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী, পালংখালী, টেকনাফের ঘিলাতলী, উলুবনিয়া রাস্তার মাথা, তুলাতলী, হোয়াইক্যং, লম্বাবিল মহাসড়কটির এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহন চলার দৃশ্য যেন ¯্রােতশ^ীনী নদীর উপর যাত্রীবাহি নৌকা চলার মত। কখন যে উল্টে নিখোঁজ হয়ে যাবে তাজা প্রাণ তা জানার বা বলার কোন পরিবেশ নেই। উল্লেখ্য যে, শনিবার সকালে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ী যাওয়ার পথে কেন্দ্রীয় কবরস্থানের পাশের্^ চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাকের চাকায় পৃষ্ট হয়ে লাশ হয়ে পড়ে রইল একজন ঘোরখোদক। যিনি এ পর্যন্ত হাজারেরও অধিক কবর খুড়েছেন। তার অনাকাংঙ্খিত এ মৃত্যুতে যানবাহনের প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মছে। ঘিলাতলী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা লোকজন হাকিম (৭৫) নামের ওই ঘোরখোদকের নামাজে জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল নেমেছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার লিংক রোড থেকে উখিয়ায় নব নির্মিত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জামিল ইকবাল ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন কাজে নিযুক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সালেহ বাবুল ২০১৮ সালে কার্যাদেশ মোতাবেক কাজ শুরু করেন। প্রথম প্যাকেজের মরিচ্যা কিছু অংশ ও কোটবাজার সহ উখিয়ার আংশিক কাজ সম্পন্ন করে বাকী কাজ টুকু কুড়াকুড়ি করে ফেলে রাখে। দীর্ঘ সূত্রতার কারণে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ থাকায় নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় খানা খন্দকে সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ভুক্তভোগীদের দাবী।
টেকনাফ থেকে আসা সেন্টমার্টিন হুন্দাই বাসের চালক আবুল কাসেম বলেন, এই সড়ক দিয়ে গাড়ি চালানো কোন ভাবেই নিরাপদ নয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি নিয়ে মহাদুর্ভোগে রয়েছি। আর কতদিন এভাবে কষ্ট করব, তাও জানি না। কক্সবাজার টেকনাফ সড়কের চলারত স্পেশাল সার্ভিস, সী-লাইন সার্ভিস, কক্স লাইন সার্ভিসহ কয়েকটি বাসের অন্তত ৭/৮ জন চালকের সাথে কথা বলা হলে তারা জানান, এ সড়কের যেসব অংশে বেশি ভাঙা, সেসব অংশ এলে যাত্রীরা ঝাঁকুনির ভয়ে বাস থেকে নেমে যেতে চান। এ ছাড়া বড় বড় গর্তগুলোতে আটকে পড়ার কারণে অনেক সময় গাড়ি বিকল হয়ে যায়। তখন যাত্রীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে দখল বেদখল ও বৈদ্যুতিক খুঁটি সরাতে গিয়ে নির্মাণ কাজের গতি কমেছে। তিনি বলেন, এখন দিন রাত কাজ চলছে। যে কারণে যানবাহন চলাচলে একটু বিঘœ সৃষ্টি হলেও করার কিছুই নেই, কাজ শেষ করতে হবে। তা না হলে যাত্রীদের আরো দুর্ভোগ পোহাতে হবে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে দুই প্যাকেজ সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে বেশ কয়েকবার টেলিফোনে আলাপত করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

Share this post

scroll to top