কেমন আছে দূর্ঘটনায় নিহত উখিয়ার শাহ রেজা’র পরিবার!

received_857123771522796.jpeg

উখিয়া ক্রাইম নিউজ ডেস্ক::

এখনো বাকরুদ্ধ শাহ রেজার মা। ৭মাসের শিশু তানজিম রেজা আপরিন এখনো বাবার পথ চেয়ে যেন বসে আছে। পাগল প্রায় তার স্ত্রী তানিয়া।

নিজের কঠোর পরিশ্রমের টাকা দিয়ে তৈরিকৃত বাড়ির কাজ এখনো সম্পন্ন করতে পারেনি রেজা। বাড়ি ঘিরে কত স্বপ্নই না বুনেছিল। সব স্বপ্ন ধূলিস্যাত করে দিয়েছে সড়ক দূর্ঘটনা। কেড়ে নিয়েছে একটি তাজা প্রাণ। ঘাতক ডাম্পারের বেপরোয়া গতির কাছে চুরমার হয়ে গেছে মায়ের একমাত্র সম্বল। পরিবারের হাল ধরার আর কেউই রইলনা বলে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে শাহ রেজার মা।

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার প্রধান সড়কে ডাম্পার (মিনিট্রাক) মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মো: শাহ রেজা (৩০) ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। রত্না পালং ইউনিয়নের টেকপাড়া এলাকার মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ভেলা’র একমাত্র পুত্র সন্তান। রাতে জানাজা সম্পন্ন করে কবর দেওয়া হয়েছে তার বাবার কবরের পাশেই।

সরেজমিনে তার বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি, শাহ রেজা বাবাকে হারায় প্রায় ৮ বছর। বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের হাল ধরে সে একাই। দীর্ঘ পড়ালেখার স্বপ্ন থাকলেও বেশীদূর এগুতে পারেনি। উখিয়ার রাজপথে,জীবন বাচাঁতে,সংসার সাজাঁতে,পরিবারের চাহিদা মেটাতে কম্পিউটারের বাটনটাই সঙ্গি করে নিয়েছিল সে। কর্মরত ছিল উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর পদে। শখের বশে ব্যাডমিন্টন খেলতেন। ব্যাডমিন্টন খেলায় পার্দর্শীতার কারনে রয়রছে অনেক সুনাম ও সম্মাননা। চলাফেরায় অসম্ভব অমায়িক ও ভদ্র ছিল বলেন জানান দেই তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের ফেসবুক পোস্ট গুলো।

২বোনের একমাত্র ভাই শাহ রেজা। ২বোনের বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব গুছিয়ে নিজে বিয়ের পিড়িতে বসে ২০১৯ সনে। তার সংসারে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের আগমনও ঘটে তার সংসারে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন পরবর্তী প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ কালু ও আজাদ নামের দুই ব্যক্তি জানান, ঘাতক অবৈধ ডাম্পার খুব দ্রতগতির ছিল। শাহ রেজা বাইক নিয়ে উখিয়া হতে কোটাবাজার ফিরছিলেন। দূর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তে তার বাইকের সামনে দ্রুতগতির ডাম্পার দেখে সে রাস্তার পাশে হাটাচলাচলের যায়গায় বাইক নামিয়ে দিয়ে ধীর গতিতেই যাচ্ছিলেন। কিন্তু ঘাতক দ্রুত গতির ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রং সাইডে গিয়ে শাহ রেজার বাইকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে শাহ রেজা। প্রত্যক্ষদর্শীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে তার ঠিক একটু পরে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

Share this post

scroll to top